ফেসবুক গ্রুপে বাসা ভাড়ার নামে সক্রিয় প্রতারকচক্র

অনলাইন ডেস্ক

ফ্ল্যাট ও বাসা ভাড়ার ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ‘টু লেট ইন চিটাগাং’ এ আফ্রিদি হক নামে এক ব্যক্তি মেহেদিবাগ এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া হবে উল্লেখ করে গত ২০ জানুয়ারি একটি পোস্ট করেন। বাসার ছবিসহ বিস্তারিত উল্লেখ করে সেই পোস্টে যোগাযোগের একটি মোবাইল নম্বরও (০১৮৩৮৯১০৪৬২) দেওয়া হয়। এই গ্রুপ ছাড়াও ওই ব্যক্তি ‘চিটাগাং ফ্ল্যাট/এপার্টমেন্ট/হাউস টু লেট’ গ্রুপসহ একাধিক ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেন।

এদিকে ছবি দেখে লোকেশন ও বাসা পছন্দ হওয়ায় সেই পোস্টদাতা আফ্রিদি হকের সাথে যোগাযোগ করে বাসা ভাড়ার অগ্রিম জামানত হিসেবে ৪ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠান আফরিন মনি নামে এক নারী।

শুধু তাই নয়, ইসফার নাঈম নামে এক ব্যক্তিও ওই একই বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য অগ্রিম জামানত হিসেবে বিকাশে ৫ হাজার টাকা পাঠান। একইভাবে আরো অন্তত ৮/১০ জন থেকে একই বাসা ভাড়ার অগ্রিম জামানত হিসেবে বিকাশে টাকা নেন আফ্রিদি হক নামের সেই ব্যক্তি।

এভাবে দুই/তিন দিন একাধিক ব্যক্তি থেকে টাকা সংগ্রহের পর বাসা দেখাবে বলে হঠাৎ মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। আর এভাবেই অনেকের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপগুলোতে বাসা ভাড়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অর্থ। প্রতারকচক্র একাধিক ভুয়া আইডি ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের এসব প্রতারণা।

প্রতারণার শিকার হওয়া ইসফার নাঈম জানান, ফেসবুক গ্রুপে একটা বাসা ভাড়ার পোস্ট দেখি এবং কল করি। যেহেতু ফেব্রুয়ারি মাসের প্রায় শেষের দিকে আর আমরা মার্চ থেকেই নতুন বাসায় উঠবো, তার উপর অফিসের ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে সময়ের স্বল্পতার কারণে কথা বলে আমি ৫ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে দেই। ভদ্রলোক সন্ধ্যায় অফিসের পর বাসা দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও নানা ব্যস্ততা দেখাতে থাকেন এবং পরের দিন বাসা দেখাতে চান। ২১ ফেব্রুয়ারি অফিস বন্ধ থাকায় আমি সকালের সময় নিই। কিন্তু ওই লোক সকাল হলে দুপুরে সময় দেন। আর বিকেলে যখন কল করি আমার কল আর রিসিভ করেন না। সন্ধ্যায় ফোন অফ করে দেন।

এই ব্যক্তির প্রতারণার কথা উল্লেখ করে আমিনা খাতুন বলেন, এই লোক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে অনেকগুলো গ্রুপে যুক্ত আছেন। প্রাইম লোকেশনে স্বল্প ভাড়ায় এডিট করা বাসার ছবি দিয়ে থাকেন। আপনি যখনি বলবেন বাসাটা আমার দরকার তখন বলবে একজন একটু পরই এডভান্স করবে। আপনি নিলে কিছু এডভান্স করুন। আমি অন্যজনকে না করছি। ব্যস, দিয়ে দিবেন বিকাশে। তারপর এটা ওটা বলবে। পরবর্তীতে নম্বর বন্ধ। এ পর্যন্ত এই ব্যক্তি বিগত কয়েক মাসে একাধিক ব্যক্তি থেকে ৬০/৭০ হাজার টাকা এভাবে হাতিয়েছে। তার বাড়ি কখনো পটিয়া বলে। বিকাশ নম্বর দেয় নোয়াখালির।

এর আগে গত জানুয়ারি মাসেও শাহজাদা নাসের নামের এক ফেসবুক আইডি থেকে বাসা ভাড়ার নামে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়। তার প্রতারণায় ভুক্তভোগী মো. সাহেদ নামে এক ব্যক্তি জানান, ১৪ জানুয়ারি দুপুরে কাতালগঞ্জে বাসা আছে বলে পোস্ট দেয় এই ব্যক্তি, বাসা ভাল, টাকা কম, লোকেশন ভাল। তাড়াতাড়ি ভাড়া হয়ে যাবে চিন্তা করে বাসার ৬ হাজার টাকা এডভান্স করি। কিন্তু এই মানুষ আরো কয়েকজন থেকে টাকা কালেকশন করে। আমার বন্ধুকে ও বলল টাকা নগদে পাঠান। পরে রাত পর্যন্ত সে আমাকে টাকা ফেরত দিবে দিবে বলে আশাহত করে। বাস্তবে এই ঠিকানায় কোন বাসা নাই। বেশ কয়েকবার কথা হলে টাকা দিবে দিবে বলে আস্বস্ত করে। সে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অনেকজন থেকে টাকা নিয়েছে। এখন দেখি মোবাইল নম্বর (০১৮৮৮-৪৬৫০৬৪) বন্ধ।

একই কায়দায় গত ডিসেম্বরে মিমি সুপার মার্কেটের পাশে একটি বাসার ছবি দেখিয়ে একই প্রতারক একাধিক ব্যক্তি থেকে অগ্রিম জামানতের টাকা বিকাশে বা নগদ একাউন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করে মোবাইল বন্ধ করে দেন। এই প্রতারণা কিছুদিন পরপরই হচ্ছে। প্রতারক চক্র বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মো. লিয়াকত আলী খান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার পর থেকে কিছু কুচক্রি মহল ডিজিটাল মাধ্যমকে প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফেসবুকে ভুয়া একাউন্ট ব্যবহার করে এবং অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে প্রতারণার পর সেই একাউন্ট ও সিম বন্ধ করে দেয়। এতে ওইসব প্রতারকদের শনাক্ত করতে সময় লেগে যায়।

তিনি আরো বলেন, ফেসবুকে বাসা ভাড়ার নামে ফোনে অগ্রিম জামানত কেউ চাইলে তা কখনোই পাঠানো উচিত না। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক হতে হবে। কারো মন ভোলানো কথা কিংবা সরলতাকে যেন প্রতারকরা পুঁজি করতে না পারে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আর প্রতারণার ঘটনা ঘটলে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে অভিযোগ করতে হবে। তবেই আমরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারবো।

Related Articles

Back to top button